লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো


লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো আপনিও কি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে চান? কোন আটায় বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং দৈনন্দিন খাবারের জন্য কোনটি বেশি উপকারী, তা কি জানেন?

লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো


এই আর্টিকেলে আমরা লাল ও সাদা আটার পুষ্টি উপাদান, স্বাস্থ্য উপকারিতা, ক্ষতিকর দিক, তৈরির প্রক্রিয়া, খাওয়ার সঠিক সময় এবং কোন আটা কার জন্য বেশি উপযোগী এসব বিষয় সহজ ও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরব।

 পেজ সূচিপত্রঃ লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

  • লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • লাল আটা কিভাবে তৈরি করা হয়
  • লালা আটার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান
  • লাল আটার স্বাস্থ্য উপকারিতা
  • লাল আটা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
  • লাল আটা খাওয়ার সঠিক সময় এবং উপায়
  • সাদা আটা কিভাবে তৈরি করা হয়
  • সাদা আটার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান
  • সাদা আটা কখন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
  • সাদা আটা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
  • উপসংহারঃ (লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো)

লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, লাল আটা সাদা আটার তুলনায় বেশি পুষ্টিকর, কারণ এতে গমের বাইরের আঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি বড় অংশ অক্ষত থাকে। তাই এটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী বলে ধরা হয়।

লাল আটায় প্রচুর খাদ্যআঁশ থাকায় এটি হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান বা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চান, তাঁদের জন্য লাল আটা সাধারণত ভালো একটি পছন্দ হতে পারে।

অন্যদিকে, সাদা আটা তৈরির সময় গমের বাইরের স্তর ও কিছু পুষ্টিগুণ বাদ পড়ে যায়। ফলে এটি তুলনামূলকভাবে নরম ও হালকা হলেও খাদ্যআঁশ, ভিটামিন এবং খনিজের পরিমাণ কম থাকে। তাই নিয়মিত সাদা আটা খাওয়ার পরিবর্তে লাল আটা বেছে নেওয়া বেশি উপকারী।

তবে সব মানুষের শারীরিক অবস্থা এক রকম নয়। কারও যদি হজমের বিশেষ সমস্যা থাকে বা চিকিৎসক নির্দিষ্ট ধরনের আটা খেতে পরামর্শ দেন, তাহলে সেই পরামর্শই অনুসরণ করা উচিত। সুস্থ মানুষের জন্য সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে লাল আটা খাওয়াই সাধারণভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়।

লাল আটা কিভাবে তৈরি করা হয়

এটি সম্পূর্ণ গমের দানা পরিষ্কার করে তৈরি করা হয়। প্রথমে গম ভালোভাবে বাছাই করে ধুলোবালি, পাথর ও অন্যান্য অশুদ্ধি আলাদা করা হয়। এরপর গম ধুয়ে বা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেওয়া হয়, যাতে এটি পেষাইয়ের জন্য উপযুক্ত হয়।

এরপর শুকনো গম চাকি বা আধুনিক মিলে পিষে আটা তৈরি করা হয়। লাল আটা তৈরির সময় গমের বাইরের আবরণ (ব্র্যান) এবং ভেতরের অংশ একসঙ্গে পেষাই করা হয়। তাই এতে প্রাকৃতিক আঁশ, ভিটামিন ও খনিজের অনেকটাই বজায় থাকে।

লাল আটায় কোনো অতিরিক্ত সাদা করার প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় না। এই কারণেই এর রং হালকা বাদামি বা লালচে দেখায়। গমের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষত থাকায় এটি সাধারণত সাদা আটার তুলনায় বেশি পুষ্টিকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

সবশেষে তৈরি করা আটা ছেঁকে প্যাকেটজাত করা হয় এবং বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। তবে অনেকেই বাড়ির কাছের চাকি থেকে তাজা গম পিষিয়ে লাল আটা তৈরি করেন, যা তুলনামূলকভাবে বেশি সতেজ এবং স্বাদেও ভালো হতে পারে।

লালা আটার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান

লাল আটা প্রাকৃতিকভাবে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। গমের বাইরের আঁশসহ সম্পূর্ণ দানা থেকে তৈরি হওয়ায় এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ থাকে।

লাল আটায় থাকা প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

  • খাদ্যআঁশ (ফাইবার)

  • কার্বোহাইড্রেট

  • প্রোটিন

  • অল্প পরিমাণ স্বাস্থ্যকর চর্বি

  • ভিটামিন বি১ (থায়ামিন)

  • ভিটামিন বি৩ (নায়াসিন)

  • ভিটামিন বি৬

  • ভিটামিন ই

  • আয়রন

  • ম্যাগনেসিয়াম

  • ফসফরাস

  • জিঙ্ক

  • পটাশিয়াম

  • ম্যাঙ্গানিজ

  • সেলেনিয়াম

এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে শক্তি জোগাতে, হজমশক্তি ভালো রাখতে, হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে লাল আটা রাখা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

লাল আটার স্বাস্থ্য উপকারিতা

লাল আটা শুধু একটি সাধারণ খাদ্য নয়, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর শস্যজাত খাবার। এতে থাকা খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও অন্যান্য খনিজ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে।

নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে লাল আটা খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। নিচে লাল আটার উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো।

১. হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে

লাল আটায় প্রচুর খাদ্যআঁশ থাকে, যা অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায় এবং খাবার সহজে হজম হতে সাহায্য করে।

২. দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে

লাল আটার ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় রাখার কারণে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কম হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে লাল আটা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

৪. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে

লাল আটার খাদ্যআঁশ ও তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক প্রভাবের কারণে এটি ধীরে ধীরে গ্লুকোজ শোষণে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

৫. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

লাল আটার খাদ্যআঁশ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে।

৬. শরীরে শক্তি জোগায়

লাল আটায় থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ফলে দীর্ঘ সময় কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৭. রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে

লাল আটায় আয়রনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে, যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে আয়রনের প্রধান উৎস হিসেবে শুধু লাল আটার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

৮. হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক

লাল আটায় থাকা জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতে সাহায্য করে।

১০. অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী

লাল আটার খাদ্যআঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

১১. ভিটামিন ও খনিজের ভালো উৎস

লাল আটায় ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, ভিটামিন ই, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

১২. দৈনন্দিন সুষম খাদ্যের জন্য স্বাস্থ্যকর নির্বাচন

ভাত, ডাল, শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ফলের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে লাল আটা খেলে একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

লাল আটা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক

লাল আটা পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হলেও, সবার জন্য সব পরিস্থিতিতে এটি সমান উপকারী নাও হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া বা কিছু শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে লাল আটা কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অসুবিধার কারণ হতে পারে। তাই এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

  • অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

  • বেশি খাদ্যআঁশের কারণে কিছু মানুষের পেটব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

  • পর্যাপ্ত পানি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

  • গমে থাকা গ্লুটেনের কারণে গ্লুটেন অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি ক্ষতিকর।

  • অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে ওজন বাড়তে পারে।

  • কিডনির বিশেষ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

  • শুধু লাল আটার ওপর নির্ভর করলে শরীরের সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না, তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি।

  • অপরিষ্কার বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা আটা ব্যবহার করলে ছত্রাক বা পোকামাকড়ের দূষণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

লাল আটা খাওয়ার সঠিক সময় এবং উপায়

লাল আটা দিনের যেকোনো সময় খাওয়া গেলেও সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবারে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কারণ এতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে দিনের কাজের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়।

যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করছেন, তাঁরা রাতে পরিমিত পরিমাণে লাল আটার রুটি খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত রুটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সবজি, ডাল, মাছ, মুরগি বা ডিমের সঙ্গে খেলে এটি একটি সুষম খাবারে পরিণত হয়।

লাল আটা খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। কারণ এতে খাদ্যআঁশের পরিমাণ বেশি থাকে, যা সঠিকভাবে কাজ করতে শরীরে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। এতে হজম ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

প্রতিদিন ২–৪টি রুটি খাওয়া অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে সঠিক পরিমাণ বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

সাদা আটা কিভাবে তৈরি করা হয়

সাদা আটা তৈরির জন্য প্রথমে ভালো মানের গম পরিষ্কার করে ধুলো, পাথর ও অন্যান্য অশুদ্ধি দূর করা হয়। এরপর গম শুকিয়ে মিলে পাঠানো হয়।

মিলে গমের বাইরের আবরণ (ব্র্যান) এবং অঙ্কুর (জার্ম) আলাদা করে শুধু ভেতরের শ্বেতসারযুক্ত অংশ বা এন্ডোস্পার্ম পিষে সাদা আটা তৈরি করা হয়। এই কারণেই সাদা আটা মিহি, নরম এবং সাদা রঙের হয়।

বাইরের অংশ আলাদা করার ফলে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও কিছু খনিজের পরিমাণ কমে যায়। তবে অনেক দেশে কিছু সাদা আটায় অতিরিক্ত আয়রন ও বি-ভিটামিন যোগ করা হয়, যদিও সব পণ্যে এটি করা হয় না।

সবশেষে আটা ছেঁকে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এটি সাধারণত রুটি, পরোটা, নান, বিস্কুট, কেক ও বিভিন্ন বেকারি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

সাদা আটার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান

সাদা আটায় প্রধানত কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। এছাড়া এতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ চর্বিও থাকে।

এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের কিছু অংশ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ থাকতে পারে। তবে লাল আটার তুলনায় খাদ্যআঁশ ও প্রাকৃতিক ভিটামিনের পরিমাণ কম থাকে।

কিছু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাদা আটায় অতিরিক্ত আয়রন ও বি-ভিটামিন যোগ করে পুষ্টিমান বাড়িয়ে থাকে। তাই প্যাকেটজাত আটা কেনার সময় পুষ্টিগুণের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।

সাদা আটা শরীরকে দ্রুত শক্তি দিলেও এটি একমাত্র পুষ্টির উৎস নয়। তাই এটি খাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও নিয়মিত খাওয়া উচিত।

সাদা আটা কখন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

যাঁদের দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হয়, যেমন বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন বা খেলাধুলা করেন, তাঁদের জন্য সাদা আটা পরিমিত পরিমাণে উপকারী হতে পারে। এটি সহজে হজম হয় এবং দ্রুত শক্তি দেয়।

কিছু মানুষের হজমের সমস্যা থাকলে বা চিকিৎসকের পরামর্শে কম আঁশযুক্ত খাবার খেতে হলে সাদা আটা সাময়িকভাবে উপযুক্ত হতে পারে। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় অনেকের জন্য সহজপাচ্য খাবার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে সাদা আটার তৈরি নরম রুটি বা অন্যান্য খাবার খাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে প্রতিদিনের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় শুধুমাত্র সাদা আটার ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।

সাদা আটা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক

সাদা আটায় খাদ্যআঁশ কম থাকায় এটি বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে না, ফলে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

এটি তুলনামূলক দ্রুত হজম হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।

নিয়মিত অতিরিক্ত সাদা আটা খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে অতিরিক্ত তেল, ঘি বা চিনি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া গমে থাকা গ্লুটেনের কারণে সিলিয়াক রোগ বা গ্লুটেন অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সাদা আটা উপযুক্ত নয়।

উপসংহার: লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

লাল নাকি সাদা আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এর উত্তর নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক প্রয়োজনের ওপর। তবে সাধারণভাবে লাল আটা বেশি খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য তুলনামূলক ভালো পছন্দ।

অন্যদিকে, সাদা আটা সহজে হজম হয় এবং দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু এতে খাদ্যআঁশ ও প্রাকৃতিক পুষ্টি তুলনামূলক কম থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় সাদা আটার পরিবর্তে লাল আটা রাখলে বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়।

তবে যাঁদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসক নির্দিষ্ট ধরনের আটা খেতে বলেছেন, তাঁদের সেই পরামর্শ মেনে চলা উচিত। যেকোনো আটা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।

সবশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য শুধু লাল বা সাদা আটা নয়, বরং শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url